আইপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

এবং ডেস্ক : করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ায় ভারতে ৩ মে পর্যন্ত লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে স্থগিতই থাকছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। গেল ২৯ মার্চ শুরু হওয়ার কথা ছিল মিলিয়ন ডলারের এ টুর্নামেন্ট। তবে প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রকোপে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফায় তা স্থগিত রাখা হয়। লকডাউনের সময় বাড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হলো আইপিএল।

মঙ্গলবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারাদেশে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণার পর পরই বৈঠকে বসে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এসময় আইপিএলের সব স্টেকহোল্ডার, আট ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ব্রডকাস্টার্সদের সঙ্গে কথা বলে তারা।ফলপ্রসূ আলোচনা শেষে ভিডিওবার্তায় লিগ আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে বিসিসিআই। তবে তা বাতিল হচ্ছে না বলে জানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কনফারেন্স কলের মাধ্যমে সেই বৈঠকে বসেন বিসিসিআই’র শীর্ষকর্তারা। তাতে অংশগ্রহণ করেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি, সচিব জয় শাহ, কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধুমল, আইপিএল চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেল এবং চিফ অপারেটিং কর্তা হেমাঙ্গ আমিন। সেখানেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের পর এক ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তা জানিয়েছেন, আইপিএল আপাতত স্থগিত থাকছে। ফলে টুর্নামেন্ট নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গেল। যদিও এখনও তা বাতিল হয়নি। আশা করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে করোনা বিদায় নিলে জমজমাট লিগ হবে।

তবে আইপিএল না হলে চরম ক্ষতির মুখে পড়বে বিসিসিআই। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে তাদের।বিশ্বের তুমুল জনপ্রিয় এ টুর্নামেন্টটি নিয়ে বোর্ডটির কোনও বিমা করা নেই। তাই তা বাতিল ঘোষণা করতে পারছে না তারা। সেজন্য বিকল্প পথ বের করে লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিসিআই।

আগামী সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে হওয়ার কথা রয়েছে এশিয়া কাপ। তবে রাজনৈতিক সঙ্কটে নিরাপত্তা অযুহাতে দেশটিতে খেলতে যাবে না ভারত। সেই টুর্নামেন্ট নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মারণঘাতী করোনার কারণে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই পিছিয়ে গেলে ওই সময়ে আইপিএল হতে পারে।

এছাড়া বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে আসছে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নাও হতে পারে। আইসিসির এ বৈশ্বিক ইভেন্ট পিছিয়ে গেলে সেসময়ে আইপিএল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার পর্যন্ত ভারতে ১১ হাজারের বেশি মানুষ করোনা পজিটিভ হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০০-এর বেশি। লকডাউন মেনে চলতে দেশটির মানুষদের ওপর নানা বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। বাইরে নয় ক্রিকেটাররাও। বিদেশি ক্রিকেটাররা নিজেদের দেশে গৃহবন্দি রয়েছেন। ফলে এ মুহূর্তে আইপিএল স্থগিত করা ছাড়া উপায় ছিল না।তথ্যসূত্র: পিটিআই/ইএসপিএন ক্রিকইনফো

ট্যাগ্স
আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Leave a Reply

Close