মাংস বিক্রেতা নয়, হাড্ডি ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মেয়র’

এবং ডেস্ক : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন রমজান উপলক্ষে মাংসের দাম নির্ধারণে মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নয়, হাড্ডি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে দাবি করেছে গাবতলী পশুর হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষ।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক গাবতলী পশুর হাট নিয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপনের প্রতিবাদে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তারা।

তাদের দাবি, মেয়রের সঙ্গে ওই বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা কেউ মাংস ব্যবসায়ী নয়, হাড্ডি ব্যবসায়ী। আর যারা প্রকৃত মাংস ব্যবসায়ী, তারা ওই বৈঠক সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

তা ছাড়া ভারত থেকে বৈধভাবে গরু আমদানি বন্ধ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সীমান্ত উন্মুক্ত না হলে মাংসের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গাবতলী পশুর হাট কর্তৃপক্ষের সদস্য সানোয়ার হোসেন বলেন, গাবতলী পশুর হাটে কোনো চাঁদা আদায় করা হয় না।

সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্ধারিত হাসিল- গরুপ্রতি ১০০ টাকা, মহিষপ্রতি ১৫০ টাকা ও ছাগলপ্রতি ৩৫ টাকা আদায় করা হয়। তাই এ কারণে মাংসের দাম বৃদ্ধি, এ দাবি অযৌক্তিক।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা শুধু গাবতলী হাট থেকে পশু কেনেন না। তারা অন্যান্য হাট থেকেও গরু কিনেন।

গাবতলী ছাড়া আরিচা হাটে ৫১০ টাকা, আশুলিয়ায় ৪০০, কেরানীগঞ্জের পাড়াগাঁওয়ে ৪০০, ফরিদপুরের অরুণখোলায় ৬০০, ধামরাইয়ে ৫০০, কমলাপুরে ৪০০, রাজশাহী সিটিতে ৪৫০, কালিয়াকৈরের কাইতলায় ৩৫০ এবং বাইনাপাড়া হাটে ৪০০ টাকা আদায় করা হয়। সেই তুলনায় গাবতলী হাটে হাসিল অনেক কম।

তবে সংবাদ সম্মেলনটি যৌথভাবে ‘গাবতলী গরুর হাট কর্তৃপক্ষ, পশু ব্যবসায়ী ও মাংস ব্যবসায়ীদের’ নামে করা হলেও সেখানে দু-একজন মাংস ব্যবসায়ী ছাড়া উল্লেখযোগ্য কাউকে দেখা যায়নি। এমনকি হাট ইজারাদার লুৎফুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন না এই সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়- প্রতি রমজানে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র যখন মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেন, গত কয়েক বছর ধরে সেখানে গাবতলী হাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে মাংস ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির অভিযোগ করে থাকেন। কিন্তু সেখানে আজকের আয়োজক মাংস ব্যবসায়ীরা কেন প্রতিবাদ করেন না?

জবাবে তারা বলেন, আমরা ওই অনুষ্ঠানের কথা জানি না। ওই বৈঠকের কথা আমাদের জানানো হয় না। সেখানে যারা যান, তারা মাংস ব্যবসায়ী নয়, হাড্ডি ব্যবসায়ী।

প্রসঙ্গত গত সোমবার নগর ভবনে মাংস ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই আলোচনা সভায় প্রতিকেজি দেশি গরুর মাংসের সর্বোচ্চ দাম ৫২৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এছাড়া বোল্ডার গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫০০ টাকা, মহিষের মাংস ৪৮০ টাকা, খাসির মাংস সাড়ে ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর প্রতিকেজি ভেড়ার মাংসের দাম নির্ধারণ করা হয় ৬৫০ টাকা।

প্রথম রোজা থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এ মূল্য।

ট্যাগ্স
আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Leave a Reply

Close