হতাশার হার নিয়ে বাড়ি ফেরা

এবং ডেস্ক : ঈশ্বরকে পাওয়ার প্রার্থনার মতো ইংল্যান্ডের হার কামনা করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সমর্থন দিয়েছে ভারতকে। লক্ষ্য একটায় অন্যের হারে সেমিফাইনালের পথটা পরিষ্কার হবে টাইগারদের। কিন্তু অন্যের হারেই বা কি হতো! যদি নিজেদের কাজটা বাংলাদেশ ঠিকঠাক করতে না পারে? পাকিস্তান পেরেছে, নিজেদের কাজটা ঠিক মতো করতে পারেনি বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদির এক তোপে ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছেন মাশরাফিরা।

সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলে সাতে থেকে গেছে। আটে নেমে যাওয়ার চোখ রাঙানিও আছে। আর পাকিস্তান বিশ্বকাপ শেষ করেছে পাঁচে থেকে। অথচ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাজেভাবে হেরেছিল তারা। নিউজিল্যান্ডের সমান ১১ পয়েন্ট নিয়েও নেট রান রেটে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছেন সরফরাজরা।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডার্ক হর্স বাংলাদেশ দুর্দান্ত এক জয়ে শুরু করে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসরের শেষ ম্যাচে হতাশার হারে যেন সব প্রাপ্তির জলাঞ্জলি। কারণ ম্যাচটা ছিল গৌরবের। সম্মানের কিংবা মান বাঁচানোর। কিন্তু শুরুর সফল দল চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে শেষ ম্যাচে। আসর শেষ করেছে মাত্র তিন জয় আর পাঁচ হারে। ভারত, নিউজিল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপানো টাইগারদের এই হার তাই ভক্তদের কাছে বড় বিষাদ হয়ে এসেছে।

হোম অব ক্রিকেট খ্যাত লর্ডসে শুক্রবার শুরুতে ট জিতে ব্যাট করে ৩১৬ রানের লক্ষ্য দেয় পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ওপেনার সৌম্য সরকার ২২ রান করে ফিরে যান। দলের রান তখন ২৬। দলীয় ৪৮ রানে ফিরে আসেন তামিম ইকবাল। করেন মাত্র ৮ রান। এরপর মুশফিকুর রহিম আউট হন ১৬ রান করে। টাইগারদের স্কোর তখন ৭৮। বড় চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

লিটন দাসকে নিয়ে রানতরী এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান। এই দুজন যোগ করেন ৫৮ রান। দলীয় ১৩৬ রানে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে দৃষ্টিকটুভাবে বিদায় নেন ৩২ রান করা লিটন। দলের রান ১৫৪ হতেই ফিরে যান বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলা সাকিব আল হাসান। ৬৪ রান করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। বিদায় নেওয়ার আগে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানের মালিক হন।

পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৯ রানে বোল্ড হন। তার সঙ্গে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন ১৬ রানে আউট হন। আগের ম্যাচে ফিফটি করে সাইফউদ্দিন কি মনে করে প্রথম বলেই হাকাতে যান। অপরিকল্পিত খেলার দায় গোনেন গোল্ডেন ডাক মেরে। মাশরাফির ব্যাট থেকে আসা ১৫ রান হারের ব্যবধানই যা কমায়।

এর আগে পাকিস্তানের ইমাম উল ১০০ রান করে মুস্তাফিজের বলে হিট উইকেট হন। দু’টি জীবন পাওয়া বাবর আযম করেন ৯৬ রান। এছাড়া ইমাদ ওয়াসিম ৪৩ এবং মোহাম্মদ হাফিজ করেন ২৭ রান। বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজ নেন পাঁচ উইকেট। সাইফউদ্দিন পান তিন উইকেট। পাকিস্তান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির ৬ উইকেট ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেরা বোলিং ফিগার।

ট্যাগ্স
আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Leave a Reply

Close