চার ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর বুয়েট ভিসি কক্ষের তালা খুলে দিল শিক্ষার্থীরা

এবং ডেস্ক : অবরুদ্ধ থাকা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসির কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এখনও নিজ কার্যালয়েই অবস্থান করছেন ভিসি।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের ৮ দফা মেনে না নেওয়ার আগ পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ভিসির কার্যালয়ের তালা খুলে এদিনের মতো আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, সন্ধায় ভিসি ক্যাম্পাসে এলেও আমাদের কেনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। আমরা ৮ দফা দাবি থেকে সরে আসেনি। আগামীকাল (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আবার ক্যাম্পাসে জড়ো হবো। আন্দোলন চালিয়ো যাব।

এর আগে বেঁধে দেয়া সময় শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হন ভিসি। এসেই শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন ভিসি। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভিসি বলেন, তোমরা যা দাবি দিয়েছ তোমাদের দাবির সঙ্গে অ্যাগ্রি (একমত) করছি। আমরা নীতিগতভাবে সব দাবি মেনে নিচ্ছি।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ভিসিকে দাবিগুলো পড়ে শুনিয়ে ঠিক কোন কোন দাবি মানা হল- তা জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে চলে যেতে চান ভিসি।

একপর্যায়ে ভিসিকে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করেন, আবরার হত্যার ঘটনার পর তিনি কেন ক্যাম্পাসে আসেননি? জবাবে ভিসি বলেন, আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ট্যাগ্স
আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Leave a Reply

Close