ইরাকের রাজপথ কাপাচ্ছে ‘ইন্টারনেট প্রজন্ম’

এবং ডেস্ক : মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে ইরাকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাজপথে নেমেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। ইউনিফর্ম পরে স্কুলের শিক্ষার্থীরাও তাতে অংশ নেয়।

সোমবার দেশটির রাজধানী বাগদাদ ও দক্ষিণাঞ্চলে দেখা গেল এমন অভূতপূর্ব দৃশ্য। এই তরুণেরা চায় রাষ্ট্রের মেরামত, চায় নতুন ইরাক।

ইরাকে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এরই মধ্যে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন। কিন্তু বাবা-মায়ের বাধা উপেক্ষা করেই শিক্ষার্থীরা নেমেছে রাজপথে, সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। অথচ এতদিন ভাবা হতো এসব তরুণ-তরুণীরা ইন্টারনেট আর ভিডিও গেমসের বাইরে অন্যকিছু চিন্তা করতে পারে না। ‘ইন্টারনেট প্রজন্ম’ নিয়ে এক ধরনের উন্নাসিক মনোভাব ছিল।

বাগদাদের দিজলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামারা তার বাবা-মাকে না জানিয়ে সোমবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাজপথে নামেন। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের পাবজি প্রজন্ম বলে ডাকে। তারা এখন দেখুক এই পাবজি প্রজন্ম কী করতে পারে।’

পাবাজি একটি ভিডিও গেমের নাম। যার প্রেক্ষাপট যুদ্ধ। ইরাকের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই গেমটি খুবই জনপ্রিয়। এই ‘পাবজি প্রজন্ম’ই দিনভর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দেল মাহদির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে গলা ফাটিয়েছে।

ইরাকের কর্মক্ষম ৪ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৬০ শতাংশেরই বয়স ২৫ বছরের নিচে। এই তরুণদের মধ্যে আবার বেকারত্বের হার ২৫ শতাংশ। দেশটির প্রতি পাঁচজনে একজন ব্যক্তি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তেল সমৃদ্ধ হলেও ইরাক দুর্নীতিতে জর্জরিত। সম্প্রতি দুর্নীতি নিয়ে দেশটিতে একটি সংসদীয় তদন্ত হয়। তাতে দেখা যায়, ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর থেকে ৪৫০ বিলিয়ন ডলার লোপাট হয়ে গেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণদের অভিযোগ, রাজনীতিবীদরা মেধার কোনো দামই দেন না। তারা শুধু তাদের পছন্দের লোকদেরই চাকরির সুযোগ দেন। আর ঘুষ ছাড়া চাকরি পাওয়াও বেশ কঠিন।

এই তরুণদের ক্ষোভ শুধু প্রধানমন্ত্রী মাহদির ওপর নয়। পুরো রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার ওপরই তাদের চরম ক্ষোভ রয়েছে। তা বোঝা গেল রাফাল নামে এক ছাত্রের কথায়। তিনি বলেন, ‘আগে এদেশে একজন সাদ্দাম ছিলেন। এখন পুরো সংসদ সাদ্দামে ভর্তি।’ তিনি আরও বলেন, দেশের এমন অবস্থা যে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা একজন ছাত্রকে বেঁচে থাকতে হয় ট্যাক্সি চালিয়ে।

তরুণ বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, মেসেঞ্জার, ইউটিউব ইত্যাদি ব্যবহার করে তাদের আন্দোলনের খবর ছড়িয়ে দিচ্ছেন ইরাকজুড়ে। যদিও সেসব ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগ আছে সরকারের বিরুদ্ধে। সোমবার ইরাকের শিক্ষামন্ত্রী কুইসে আল-সুহাইল হুঁশিয়ার করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন। না হলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ হুঁশিয়ারিতে শেষ পর্যন্ত কাজ হয়নি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সোমবার রাজপথে নেমেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকও। সূত্র:এএফপি।

ট্যাগ্স
আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Leave a Reply

Close