আতঙ্কের নাম ‘সমাধান রুম ১১১৯’

রাজশাহী প্রতিনিধি : দিনে-দুপুরে অধ্যক্ষকে ধরে নিয়ে পুকুড়ে ফেলা দেওয়ার ঘটনায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগসহ সব রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে; একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সন্ধান মিলেছে একটি কক্ষের যাকে ছাত্রলীগের ‘টর্চার সেল’ বলা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসের ১১১৯ নম্বর কক্ষটি তাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। এখানে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নামে চলে ছাত্রলীগের নির্যাতন।

তারা জানান, ক্যাম্পাসের কমনরুমের পাশের এই কক্ষটিকে তারা ‘সমাধান’ রুম হিসেবে চিনতেন। তবে সমাধান নয়; এটা মূলত ‘টর্চার সেল’।

শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় কলেজ ক্যাম্পাসে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুকুরের পানিতে ফেলে দেন ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদকে। তবে সাঁতার জানার কারণে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন জানান।

এই ঘটনায় রাতেই অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ ৫০ জন অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর নামে মামলা করেন।

রোববার ১১১৯ কক্ষটিতে ঢুকে দেয়ালে রক্তের দাগ এবং বেশকিছু রড পাওয়া গেছে। মেঝে জুড়েই ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে সিগারেটের মোথা। এখানে এনেই শিক্ষার্থীদের নির্যাতন চলতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, কোনওভাবে তাদের বিরুদ্ধে গেলেই এই কক্ষে এনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গণধোলাই দিতেন শিক্ষার্থীদের। নাক-মুখ ফাটিয়ে পুকুরে ফেলে দিতেন তারা।

তারা জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কারো কোনও বিরোধ হলেই তাকে ধরে এই কক্ষে আনা হতো। এরপর কক্ষে কি করা হতো তা কেউ জানতো না। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় কাউকে কাউকে বের হতে দেখা যেতো। এই কক্ষটিকে ‘সমাধান রুম’ বলা হতো।

পলিটেকনিক শাখার কেয়ারটেকার মাসুদ রানা বলেন, এই কক্ষটি টর্চারসেল নামেই পরিচিত। তিনি শুনেছেন- ছাত্রলীগের কারও সঙ্গে কোনও সমস্যা হলে এখানে এনে বিচার করা হতো।

তিনি বলেন, এই কক্ষটিকে ছাত্রলীগের ছেলেরাই আড্ডা দিতো। এখানে তাদের বাইরের কেউই অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে পারতো না। লোহার রডগুলো তাদের বলেই জানান তিনি। তবে দেয়ালে লেগে থাকা রক্তের দাগ সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

ট্যাগ্স
আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Leave a Reply

Close