মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে ‘ঐকমত্য’

এবং ডেস্ক : বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের দুয়ার দ্রুততম সময়ে খুলতে একমত হয়েছে দুই দেশ।

মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার সংসদ ভবনে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী কুলাসেগারেনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদের বৈঠকের পর এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ঢাকায় দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পর বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে বৈঠকে। ন্যূনতম ব্যয়ে কর্মী পাঠাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানা যায়নি।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত বছর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ায় কর্মীপ্রতি সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয় দুই দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। পুরো প্রক্রিয়া ‘সিন্ডিকেটে’র নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। শ্রমবাজার খুলতে বছর খানেক ধরে চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। তার ধারাবাহিকতায় বৈঠক হয়।

জনশক্তি খাত-সংশ্নিষ্টরা সমকালকে বলেছেন, তারা আশায় ছিলেন বৈঠক থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কবে নাগাদ খুলবে এ বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আসবে।

জনশক্তি রপ্তানিকারক রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রা মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেছেন, তারিখ ঘোষণা না হলেও বড় ধরনের অগ্রগতি রয়েছে। ভবিষ্যতে যেসব কর্মী মালয়েশিয়া যাবেন, দেশ ছাড়ার আগেই তাদের চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। মালয়েশিয়া গিয়ে আবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে না। অতীতে বহু কর্মী স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে মালয়েশিয়ার বিমানবন্দর থেকে খালি হাতে দেশে ফিরেছেন।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য সমকালকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জোর দেয় দ্রুত শ্রমবাজার খোলা ও অভিবাসন কমানোর ওপর। মালয়েশিয়ার মন্ত্রী শ্রমবাজার খোলার তারিখ বলেননি। তার দেশেরও কিছু শর্ত রয়েছে। বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে, তা জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা হবে। এরপর দুই দেশের মধ্যে প্রটোকল বা সমঝোতা স্মারক সই হবে। তারপর কর্মী যাওয়া শুরু হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে আগামী ১১ নভেম্বর মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান। দেশটির শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। এরপর চূড়ান্ত হবে কোন খাতে কত কর্মী নেওয়া হবে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে অভিবাসন কমানো, কর্মী পাঠাতে উভয় দেশের রিক্রুটিং এজেন্সি সম্পৃক্ততার পরিধি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডাটা শেয়ারিংয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। ‘রিক্রুটিং এজেন্সি সম্পৃক্ততার পরিধি’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয় এজেন্সি মালিকদের কাছেও। বায়রার একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, তাদের ধারণা এর মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের এজেন্সিগুলোর একচেটিয়া ক্ষমতা খর্ব হতে পারে।

তবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় কর্মীর বিদেশ যেতে কোনো টাকা খরচ হবে না। এজেন্সিগুলোকে কোনো টাকা দেবে না কর্মীরা। এজেন্সিগুলোকে কর্মী পাঠানো বাবদ ফি দেবেন নিয়োগকারীরা। মালয়েশিয়ার শর্ত হচ্ছে, কোনো কর্মী দেশটিতে যাওয়ার পর কর্মস্থল পরিবর্তন করতে পারবেন না। কেউ কর্মস্থল পরিবর্তন করলে দায়িত্ব নিতে হবে তাকে পাঠানো এজেন্সিকে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন প্রবাসীকল্যাণ সচিব মো. সেলিম রেজা, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার শহীদুল হক, অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মনীরুস সালেহীন প্রমুখ।

মালয়েশিয়ার পক্ষে ছিলেন মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল দাতো আমির বিন ওমর, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল দাতো কয়া আবুন, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. খাইরুজ্জামান প্রমুখ।

ট্যাগ্স
আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Leave a Reply

Close