নতুন বই পায়নি বিলুপ্ত ছিটমহলের শিক্ষার্থীরা, শ্রেণিকক্ষে তালা  

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : শিক্ষক নিয়োগ ও স্কুল পরিচালনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতার শিকার হয়েছে পাটগ্রাম উপজেলার ১ নম্বর শ্রীরামপুর ইউনিয়নের লতামারী বিলুপ্ত ছিটমহলের শিক্ষার্থীরা। প্রতিপক্ষের হামলায় পণ্ড হয়েছে লতামারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বই উৎসব। ফলে বই না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। অনেকের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে নতুন বই। তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে শ্রেণিকক্ষে।

২২ নম্বর লতামারী বিলুপ্ত ছিটমহলের কিসামত নিজজামা এলাকায় ২০১৭ সালে স্থাপিত হয় লতামারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রায় ৫০ গজ দূরত্বে রাস্তার ঠিক উল্টো পাশে আছে লোথামারি কামারহাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সরকারি নীতি ও দূরত্ব বিবেচনায় লতামারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০১৮ সালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিবেদন সনদ পায়। তখন থেকেই শুরু হয় কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারে জোর তৎপরতা শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানে বই উৎসব চলাকালীন বহিরাগত কিছু লোক হামলা চালিয়ে পণ্ড করে দেয় উৎসব। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া বই। তালা লাগিয়ে দেওয়া প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ।

বিদ্যালয় মাঠে কথা হয় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলো মণি, তামিম, ইন্নি আকতার ও সপ্তম শ্রেণির তাছলিমার সঙ্গে। তারা জানায়, বই উৎসবে যোগ দিতে সকালেই তারা স্কুলমাঠে জড়ো হয়। এ সময় কিছু লোক এসে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়। বই না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফেরে তারা। ওই দিন থেকে নিয়মিত স্কুলে এলেও ক্লাস হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলছে। এখনও বই না পাওয়ায় চলতি শিক্ষাবর্ষ নিয়ে চিন্তিত তারা। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকরাও চিন্তায় পড়েছেন। অভিভাবক রবিউল ইসলাম রাব্বি ও আলতাফ হোসেন জানান, ছিটমহলবাসী এতদিন নিজ দেশে পরাধীন ছিল। এখন স্বাধীন হলেও ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। স্কুল পরিচালনার দ্বন্দ্বে বলি হচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদিন জানান, তার বিদ্যালয়ে ১৮০ শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ বই পায়নি। কক্ষে তালা লাগানো থাকায় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুততম সময়ে ক্লাসে ফিরতে চান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান তিনি। বিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ পাঠদানের অনুমতি পায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিন্নভাবে আমাদের বই যোগাড় করতে হয়।’

লতামারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি রেজা আহমেদ প্রধান মওলা জানান, তার হজে যাওয়ার সময় রফিকুল ইসলামকে অস্থায়ী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। রফিকুল ইসলাম এ সুযোগে টাকার বিনিময়ে ইচ্ছামতো শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করেছেন।

শ্রেণিকক্ষে তালা ও বহিরাগতদের হামলা প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুমতি পায়নি, তাই এ বিষয়টি দেখার সুযোগ নেই তাদের।

ভারপ্রাপ্ত ইউএনও দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, কেউ বই বিতরণে বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখা হবে।’

ট্যাগ্স
আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Close